মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শিকার করা বিপুল পরিমাণ ইলিশ উঠছে চাঁদপুরের বাজারে। এসব মাছের বেশিরভাগই নরম ও পচা; ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ক্রেতারা বলছেন, অভিযানের সময় চুরি করে ধরা এসব মাছ বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করা হয়। পরে অভিযান শেষে অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত ধরে নিম্নমানের এসব মাছ আনা হয় বাজারে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাছঘাটে দেখা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের আসা ৭-৮টি বড় ইলিশের ট্রলার থেকে বরফ দেয়া মজুদকৃত ইলিশ মাছঘাটে নামানো হচ্ছে, যা নরম ও পচা। এসব ইলিশ থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাছ ব্যবসায়ী জানান, মূলত মা ইলিশ রক্ষায় নিষিদ্ধ সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলে ধরা ইলিশ ট্রলারবোঝাই করে নিয়ে আসা হচ্ছে এই মাছ ঘাটে। তাই এসব ইলিশের মান খুব একটা ভালো না। তাছাড়া ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে কর্মকর্তারা চোখের সামনে এমন পচা মাছ দেখেও নামে মাত্র কিছু মাছ নষ্ট করেছে। বাকি সব মাছ বিক্রি হয়ে গেছে। এমন অভিযান লোক দেখানো ছাড়া কিছু নয়।
এদিকে চাঁদপুরে পচা ইলিশ বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বড় স্টেশন মাছঘাটে এই অভিযান চালায় জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান।
দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম প্রধান এই ইলিশের বাজারটি। বাজারে তাজা ইলিশের পাশাপাশি নরম ও পচা ইলিশ সরবরাহের খবর পেয়ে এই অভিযান চালায় ভোক্তা অধিদপ্তর। খবর পেয়ে জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বারী জমাদার মানিক ও সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত উপস্থিত হন।
জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, বাজারে পচা মাছ বিক্রির খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নোনা ইলিশ তৈরিকারী ব্যবসায়ীদের কাছে গেলে এর সত্যতা পাই। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে হাজী বাবুল জমাদারের আড়তে এসে পচা ইলিশ মাছের স্তূপ দেখা যায়, যা খাওয়ার একেবারেই অযোগ্য। পচা মাছ বিক্রির দায়ে তাকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু মাছ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন জানান, মাছঘাটে পচা ইলিশ বিক্রির বিষয়টি অবগত হয়েছি। পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।








