নারায়ণগঞ্জ ।
,

জেলি-তেল দিয়ে ‘নকল দুধ’ তৈরির কারখানা সিলগালা, কারাদণ্ড

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় নকল দুধ তৈরি ও দুধে ভেজাল মেশানোর দুটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং উপজেলা প্রশাসন।

অভিনব ছদ্মবেশে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কারখানাগুলো শনাক্ত করে শনিবার রাতে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে ইমামা বানীন।

অভিযানে বিপুল ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও ভেজাল উপাদান জব্দসহ দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা, একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা এবং একজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

জানা যায়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি ছদ্মবেশে বিনামূল্যে ‘মেডিকেল এইড’ দেওয়ার আড়ালে পুরেন্দরপুর উত্তরপাড়ার এলাকায় অবস্থান নেন।

তিনি সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সুযোগে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও কারখানাগুলোর অবস্থান শনাক্ত করেন।

পরবর্তীতে শনিবার সন্ধ্যার পর রাতের আঁধারে যখন ভেজাল ও নকল দুধ উৎপাদনের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়, ঠিক তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ইউএনও উম্মে ইমামা বানীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে দেখা যায়, ‘স্বপ্ন ডেইরি ফার্ম’ নামক প্রতিষ্ঠানটিতে জেলি, তেল ও ব্লেন্ডিং মেশিন ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নকল দুধ তৈরি করা হচ্ছিল।

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে স্বপ্ন ডেইরি ফার্মের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কারখানাটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেয় এবং ঘটনাস্থলে থাকা ২ ড্রাম জেলি ও ১ ড্রাম পামওয়েল ধ্বংস করা হয়।

অন্যদিকে পুরেন্দরপুর উত্তরপাড়ার শামীম হোসেনের ডেইরিতে দুধে ক্ষতিকর ‘হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড’ মেশানোর প্রমাণ মেলে। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ১০০ গ্রাম হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড জব্দ করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালেতে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারায় শামীম হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে পাবনা পুলিশ লাইনের একটি চৌকস দল এবং এসআরবি-১২-এর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান করেন।

হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ও জেলি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক। এসব বিষাক্ত উপাদান গ্রহণে পাকস্থলী ও অন্ত্রের তীব্র প্রদাহ, বমি এবং ডায়রিয়া হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

বিশেষ করে শিশুদের পরিপাকতন্ত্র ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় এটি তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টি গ্রহণে চরম বাধা সৃষ্টি করে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, “দুধে ভেজাল মেশানোর এ চক্রটি বেশ সজাগ। এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রবেশের খবর পেলেই তারা সব গুটিয়ে সতর্ক হয়ে যায়। তখন তাদের ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ছদ্মবেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দুধে বা যেকোনো খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো একটি গুরুতর ও দন্ডনীয় অপরাধ। ভোক্তা স্বার্থ ক্ষুণ্ন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে এবং ভোক্তা-স্বার্থ সংরক্ষণে জেলা জুড়ে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >