কুষ্টিয়া প্রতিনিধি // এস এম বাদল: কুষ্টিয়ায় বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট কনফারেন্স’। দ্রুত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা, বিচারিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, মাদক মামলার আসামিদের ডোপ টেস্ট এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্ট দ্রুত তামিলসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলার বিচার বিভাগের অভিভাবক, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জনাব এনায়েত কবির সরকার। এতে সভাপতিত্ব করেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো. ফিরোজ মামুন।
গুরুত্বপূর্ণ এ সম্মেলনে ফোকাল পার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা পারভেজ। এছাড়া কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মাদক মামলার ক্ষেত্রে আসামিদের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদকাসক্তি শনাক্তকরণ এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন মামলায় আদালত থেকে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দ্রুত তামিল এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আধুনিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল ডিভাইসের কার্যকর ব্যবহারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্তকরণ এবং আইনগত প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সম্মেলনে বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা সমাধানে পুলিশ ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জনগণের দ্রুত ও সহজে বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হলে মামলার তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, ওয়ারেন্ট তামিল এবং বিচারিক কার্যক্রমে গতি আসবে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।




