প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার খবর পাওয়ার পর শেষ সময়ে আবার বেড়েছে ইলিশের দাম।
দুই সপ্তাহ আগেও এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ছিল আড়াই হাজার টাকা। কিন্তু এখন তা দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। আমদানির তুলনায় ক্রেতা ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম কমার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে মৎস্য বিভাগ বলছে, এবার জেলেরা কম-বেশি ইলিশ পেয়েছেন এবং সামনের সময়ে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিলে এর সুফলও জেলেরাই পাবেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া মাছঘাট এবং পাশের হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন ইলিশের আড়ত ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বহরিয়া মাছঘাটের আড়তে দেখা যায়, জেলেরা কিছু সময় পরপর ইলিশ নিয়ে আসছেন; তবে সাইজ সর্বোচ্চ ৫০০ গ্রাম। হাঁকডাকেই মুহূর্তে ইলিশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ছোট সাইজের ইলিশের হালি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, আর ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের প্রতিহালি দুই হাজার টাকা।
বহরিয়া এলাকার জেলে হান্নান গাজী বলেন, মৌসুমের শেষ সময়ে ইলিশের আমদানি কিছুটা বেড়েছে। তবে আগস্টে আমদানি খুবই কম ছিল। এখন জেলেরা যে পরিমাণ ইলিশ পায়, তাতে খরচ উঠে কোনো রকম চলে।
এ ঘাটের আড়তদার মো. ইদ্রিস আলী বলেন, শেষ সময়ে আমদানি কিছু বেড়েছে, এরপরও চাহিদার তুলনায় কম। সুনামের কারণে চাঁদপুরের ইলিশের চাহিদা বেশি।
হানারচর ইউনিয়নের জেলে নজরুল ইসলাম বলেন, এক নৌকায় ১০ জন কাজ করি। রাতে নেমে সকালে ঘাটে এসেছি। যে পরিমাণ ইলিশ পেয়েছি তাতে খরচ উঠেছে। তবে জালে ময়লা-আবর্জনা বেঁধে যাওয়ায় আজ আর নদীতে নামতে পারব না। অভিযানের আগে হয়তো দুই-একদিন মাছ ধরতে পারব।
হরিণা মাছঘাটের পাইকারি বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর সৈয়াল বলেন, গত দুই সপ্তাহ এ ঘাটে প্রতিদিন ইলিশের আমদানি ছিল প্রায় ২০০ মণ। গত কয়েকদিন কিছুটা কমেছে। দূরদূরান্ত থেকে লোক এসে ইলিশ কিনছেন, কিন্তু চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। গত সপ্তাহে এক কেজি ওজনের ইলিশ আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি করতে হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকায়। ছোট সাইজের ইলিশ প্রতি হালি ৫০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা।
এ ঘাটের প্রবীণ বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, এ ঘাটে সরাসরি জেলেরাই পদ্মা-মেঘনার ইলিশ ধরে নিয়ে আসে। বরফ দেওয়ার আগেই ক্রেতারা কিনে নেন। এখানে প্রতারণার সুযোগ নেই। সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আড়তে কেনাবেচা চলে।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত সরকার বলেন, গত সপ্তাহে কিছু ইলিশ পাওয়া গেলেও এ সপ্তাহে আমদানি কমেছে। প্রজননের সময়ের আগে কম দামে ইলিশ কিনবেন-এমন আশায় ঘাটে এসে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। চাহিদার তুলনায় ইলিশ কম, দামও কমছে না।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, এবার শেষ মুহূর্তে ইলিশের আমদানি কিছুটা বেড়েছে। হাজার হাজার জেলে ইলিশ ধরছেন, এতে তারা কম-বেশি ইলিশ পাচ্ছেন। এবারের ইলিশের সাইজ গড়ে বড়ই বেশি।
তিনি বলেন, সামনের ২২ দিনের প্রজনন মৌসুম সফল হলে সুফলও জেলেরা পাবেন। আমরা মা ইলিশ না ধরার ব্যাপারে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছি। ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন অভয়াশ্রম এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।



