যানজটের শহর রাজধানী ঢাকায় ভোগান্তি ছাড়া যাতায়াতের জন্য নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে উঠেছে মেট্রোরেল হিসেবে পরিচিত ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি)। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচলকারী মেট্রোরেলের সফলতা সামনে রেখে আরও কয়েকটি এমআরটি লাইন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। যেগুলোর মাধ্যমে মহানগরীর সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ হবে আরও দ্রুত।
এমনই একটি নিরাপদ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়-সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎচালিত ও পরিবেশবান্ধব অত্যাধুনিক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত। এমআরটি লাইন-২ হিসেবে পরিচিত এই মেট্রোরেল রুটের দৈর্ঘ্য হবে ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। বাস্তবায়ন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। বাকি ৪৫ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে ধরা হয়েছে। এই ঋণের জন্য বর্তমানে উন্নয়ন সহযোগীর (ডিপি) খোঁজ করছে সরকার।
প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। বাকি ৪৫ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা প্রকল্প ঋণ হিসেবে ধরা হয়েছে। এই ঋণের জন্য বর্তমানে উন্নয়ন সহযোগীর (ডিপি) খোঁজ করছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাবতলী থেকে ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, পলাশী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, গুলিস্তান, মতিঝিল, কমলাপুর, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও, দামড়িপাড়া, সাইনবোর্ড, ভূইঘর ও জালকুড়ি হয়ে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত এই মেট্রোরেল চলাচল করবে। এর মধ্যে ২২ দশমিক ৯০ কিলোমিটার লাইন উড়াল সড়ক বা এলিভেটেড এবং সাড়ে সাত কিলোমিটার পাতাল বা মাটির নিচ দিয়ে যাবে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) অনুমোদন করেছেন। এখন বৈদেশিক ঋণ পেতে উন্নয়ন সহযোগী খোঁজার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) প্রকল্পটি পাঠানো হয়েছে। সেখানে এটি নিয়ে কাজ করছে ফান্ড সার্চিং কমিটি। চলতি মাসেই প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে ফান্ড সার্চিং কমিটি সভা করবে বলে জানা গেছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেট্রোরেল-২ প্রকল্পের পিডিপিপি মন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। এখন ডিপি (উন্নয়ন সহযোগী) খোঁজার জন্য পিডিপিপি ইআরডিতে পাঠানো হয়েছে।’
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পে ঋণ সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং প্রকল্পে অর্থায়নের ওপর একটি উপস্থাপনা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক স্বল্প পরিসরে অর্থায়ন করবে। সুতরাং এআইআইবিসহ আরও কিছু উন্নয়ন সহযোগী দরকার হবে। সে অনুযায়ী এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের পিডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। সেখানে পর্যালোচনা শেষ করে কমিশনের মতামত দিয়ে ইআরডিতে পাঠানো হয়েছে মূলত উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ সংগ্রহের জন্য।
ইআরডির বিশ্বব্যাংক শাখা জানায়, সরকারি অর্থায়ন বাদ দিলে প্রকল্পটির জন্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ঋণ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক প্রাথমিকভাবে ৭০ মিলিয়ন ঋণ দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে। বাকি ঋণ কোথা থেকে মিলবে সেই বিষয়ে ছক কষছে ইআরডি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মেট্রোরেল গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত চলাচল করার কথা রয়েছে। যেখানে স্টেশন হবে ২৪টি। মাঝখানের স্টেশনের মধ্যে রয়েছে– ঢাকা উদ্যান, বসিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার ও ডেমরা। এছাড়া গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত এর একটি শাখা লাইন নিয়ে যাওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট প্রোফর্মার (টিএপিপি) আওতায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রাথমিক ও বিশদ নকশা প্রণয়ন এবং দরপত্র প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।
প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কোম্পানি সচিব মো. আব্দুল বাতেন ফকির কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে ইআরডির যুগ্মসচিব (বিশ্বব্যাংক) মো. আশফাকুল আমিন মুকুট জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেট্রোরেল-২ প্রকল্পটি আমাদের কাছে এসেছে। প্রকল্পে বড় আকারে বৈদেশিক ঋণ দরকার হবে। বিশ্বব্যাংক ৭০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে। বাকি ঋণের বিষয়ে ফান্ড সার্চিং কমিটিতে আলোচনা হবে। মেট্রোরেল-২ নিয়ে দ্রুত সময়ে ফান্ড সার্চিং কমিটির বৈঠক হবে।’





