নারায়ণগঞ্জ ।
,

কেশবপুরে খাল খননের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

যশোরের কেশবপুরে ব্যাসডাঙ্গা খাল খননের নামে বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগই প্রকল্প চেয়ারম্যান এবং ইউপি চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে রোববার প্রকল্প কমিটির সদস্যরা যশোর জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় কেশবপুর সদর ইউনিয়নের ব্যাসডাঙ্গা খাল খননের জন্য ৭৭ লাখ ২১ হাজার ১১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার প্রকল্প চেয়ারম্যান করা হয় ৬ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বর থানা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা নাজমা খাতুনকে। গত ২১ মে হতে খাল খনন কাজ শুরু করে ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা।

কিন্তু প্রকল্প চেয়ারম্যান নাজমা খাতুন এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান, আলাউদ্দীন আলার সহযোগিতার যেনতেনভাবে খাল খননের কাজ করেছেন । ইতোমধ্যে ২২ লাখ ৭২ হাজার ৪৪৩ টাকা উত্তোলন করেন। এরমধ্যে ভেকু ড্রাইভার জয়নাল গাজীকে ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং শ্রমিকদের মজুরি বাবদ আড়াই লাখ টাকা কাজের বিল দিয়েছেন। অবশিষ্ট টাকা প্রকল্প চেয়ারম্যান এবং ইউপি চেয়ারম্যান ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন। এই নিয়ে প্রকল্প চেয়ারম্যান এবং কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা, একপর্যায়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে, বরাদ্দ করা অর্থের মধ্যে ৫৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬৮ টাকা ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়। প্রকল্প কমিটির সদস্য আজিজুর রহমান আজিজ, মাস্টার রেজাউদ্দোলা নিজাম এবং বাবর আলি বলেন, ব্যাসডাঙ্গা খাল খননের নামে প্রায় ২৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে প্রকল্প চেয়ারম্যান এবং ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আলা ভেকুর চালককে ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং শ্রমিকদের তিন থেকে চার লাখ টাকা কাজের বিল পরিশোধ করেছে । তারা সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বাকি টাকা দুজনে ভাগ করে নিয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান নাজমা খাতুন বলেন, খাল খননের কাজ তিনি করেছেন এবং প্রকল্প অনুযায়ী খাল খনন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইসতিয়াক হোসেন বলেন, প্রকল্প অনুযায়ী খাল খনন করা হয়েছে। এছাড়া খালে অতিরিক্ত পানি থাকায়, অবশিষ্ট খাল খনন করা যায়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, ব্যাসডাঙ্গা খাল খননের ব্যাপারে কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >