নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌর এলাকায় অবস্থিত রনি নিট কম্পোজিট ডাইংয়ের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণ, অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ, সরকারি জায়গা দখল এবং পরিবেশগত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে স্থানীয়দের ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, কারখানায় ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) থাকলেও তা নিয়মিত ব্যবহার না করে বিষাক্ত বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে কৃষিজমি ও খালে ফেলা হচ্ছে। এতে খাল-নালা হয়ে দূষিত পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে টানা বৃষ্টির সঙ্গে কারখানার বর্জ্য মিশে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। দূষিত পানির কারণে মাছ মারা যাচ্ছে, ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষিকা রাহিমা বেগম রেনু বলেন, ডাইং কারখানার বিষাক্ত পানিতে এলাকার রাস্তা ও বাড়িঘর জলাবদ্ধ হয়ে আছে। প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। তিনি দ্রুত দূষিত বর্জ্য নিঃসরণ বন্ধের দাবি জানান।
বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য খাল ও জলাশয়ে মিশে মাছ মারা যাচ্ছে। কৃষিজমিতে দূষিত পানি জমে থাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার কারণে অনেক মানুষ চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এলাকার গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেন, পরিবেশগত নিয়ম না মেনেই কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পর সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মারজানুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এর আগে গত বছরের আগস্টে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কারখানার বর্জ্য পানির পাইপ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে এসব পদক্ষেপের পরও দূষণ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ।
নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ জানান, অভিযোগ তদন্ত করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সদর দপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ হোসেন বলেন, শিল্পকারখানার বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন না করে পরিবেশে ফেললে জলজ প্রাণী, কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। তাই শুধু জরিমানা নয়, পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রনি নিট কম্পোজিট ডাইংয়ের জেনারেল ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, কারখানার ইটিপি নিয়মিত চালু রয়েছে এবং বর্জ্য পানি পৌরসভার ড্রেনে ফেলা হয়। টানা বৃষ্টির কারণে ড্রেন উপচে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের অন্য কারখানার পানিও সেখানে মিশছে। সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে। রনি ডাইংয়ের বিরুদ্ধে দূষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।






