নারায়ণগঞ্জ ।
,

ভারত বন্ধ ট্রেন চালাতে চায়, চিঠি পেলে সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব পায়নি ঢাকা। রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত ট্রেন চলাচল বন্ধ করেছিলো, তাই তাদের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ আসতে হবে। চিঠি পেলে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চালুর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। গত সেপ্টেম্বরে এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচিত সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল স্থগিত করে ভারত। পরবর্তীতে ট্রেনগুলো চালুর জন্য ঢাকা দিল্লির কাছে চিঠি পাঠালেও তৎকালীন সময়ে তারা তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া বা আগ্রহ দেখায়নি। তবে সম্প্রতি ভারত মৌখিকভাবে ট্রেন চালুর ইচ্ছার কথা জানিয়েছে।

এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম একাত্তরকে বলেন, যেহেতু ভারতই ট্রেন চলাচল বন্ধ করেছিলো, তাই তাদেরকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্যোগ নিতে হবে। তবে ট্রেন চালুর ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি ও সদিচ্ছা রয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়া মাত্রই এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের রেল যোগাযোগের সঙ্গে উভয় দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পারস্পরিক স্বার্থ সরাসরি জড়িত। সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান মনে করেন, ট্রেন সচল করার মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দীর্ঘসূত্রিতা না করে উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতায় দ্রুত ট্রেন চলাচল শুরু হওয়া উচিত।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করা হয়। ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেসের চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের দিনে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চালু হয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন। ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর চালু হয় খুলনা-কলকাতা পথের বন্ধন এক্সপ্রেস। ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করে ২০২২ সালের এক জুন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত মৈত্রী এক্সপ্রেসে মোট ২ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬০ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশই ছিলেন বাংলাদেশি।

সাধারণ সময়ে ট্রেনে যাত্রী পূর্ণ থাকার হার ছিল ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। তবে ঈদ ও দুর্গাপূজার ছুটিতে এই হার ৯৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেত।

দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল সংক্রান্ত চুক্তি অনুযায়ী, এই সেবা থেকে আসা আয়ের ৭৫ শতাংশ পায় বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বাকি ২৫ শতাংশ পায় ভারতীয় রেলওয়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >