ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী দুই ভাইকে অপহরণ ও ১৪৫ ভরি ৮ আনা ৪ রতি স্বর্ণ অলংকার এবং নগদ অর্থ লুট করে পালিয়ে যাওয়া সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় তাদের হেফাজত থেকে সর্বমোট ৯৪ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণ, ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পুলিশের ৩ সেট ইউনিফর্ম, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি, মোবাইলফোন, মাইক্রোবাসসহ নানা আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামী আকতারুজ্জামান মুন্সী এসবি, ঢাকার সাব-ইন্সপেক্টর (ইতোমধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহন করা হয়েছে) ও গ্রেফতাররকৃত মোঃ রমজান আলী, পিতা- মৃত খোরশেদ আলী মানিকগঞ্জ জেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষক লীগের সভাপতি এবং গ্রেফতারকৃত মোঃ রমজান, পিতা- মৃতঃ কবির শেখ, ঢাকার শাহ আলী থানা এলাকার মাই টিভি প্রতিনিধি।

গত ৭ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি বাসে স্বর্ণ নিয়ে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন দুই ভাই। পথে গজারিয়া এলাকায় পাঁচজনের একটি ডাকাতদল, যার মধ্যে তিনজন পুলিশের পোশাক পরা, তাদের নামে মাদক মামলা আছে বলে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বাস থেকে নামিয়ে নেয়। এরপর একটি নোয়া মাইক্রোবাসে তুলে তাদের চোখ বেঁধে মারধর করে ভয় দেখিয়ে ১৪৫ ভরি স্বর্ণ, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, এटीএম কার্ড ও এনআইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। পরে গাজীপুরের কালিগঞ্জ এলাকায় হাত–পা বাঁধা অবস্থায় ভিকটিমদের ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পর ৮ ডিসেম্বর বিকেলে বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম–কে অবহিত করা হয়। তার নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস টিম তদন্তে নেমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এবং দ্রুত অভিযান শুরু করে। এ ঘটনায় গজারিয়া থানায় পেনাল কোডে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
৯ ডিসেম্বর সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের পর ঢাকার কাফরুল এলাকায় প্রথমে নোয়া মাইক্রোবাসের ড্রাইভার জাকির হোসেন (৩৮)–কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১০ ভরি ৪ আনা স্বর্ণ ও ৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই বিল্ডিংয়ের ৩য় তলা থেকে পুলিশের পোশাকধারী অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান মুন্সি (৪৩)–কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে উদ্ধার হয়—৪৩ ভরি ১ আনা স্বর্ণ,২টি হ্যান্ডকাফ,২টি ওয়াকিটকি,৩ সেট পুলিশ ইউনিফর্ম এবং ব্যবহৃত মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ-১৬-১৮১৭)। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর শাহ আলী এলাকা থেকে রমজান (৩৫)–কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ২০ ভরি ৮ আনা স্বর্ণ, স্বর্ণ মাপার স্কেল, মাই টিভির আইডি কার্ড এবং ৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থেকে চক্রের আরেক সদস্য রমজান আলী (৪০)–কে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বাড়ি থেকে ১৩ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রমজান জানায়, ডাকাতিকৃত স্বর্ণের ১৪ ভরি মিরপুর বড়বাগের ইসলাম জুয়েলার্স–এ বিক্রি করা হয়েছিল। তার দেখানো মতে দোকানের মালিক ইসমাইল হোসেন (৫০)–কে গ্রেপ্তার করে ৬ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
ডিবি জানায়, এখন পর্যন্ত ৯৪ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণ, ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট স্বর্ণ উদ্ধারের অভিযান চলছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।








