নারায়ণগঞ্জ ।
,

সিদ্ধিরগঞ্জে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কাভার্ড ভ্যান ছিনতাই: ৬১৪টি কম্বল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫ ডাকাত

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে চালক ও মালিককে জিম্মি করে প্রায় ৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা মূল্যের ৬১৪টি কম্বল লুণ্ঠনের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত কাভার্ড ভ্যান ও সব কম্বল উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৫ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মোঃ ইব্রাহিম খন্দকার (৩০), পিতা- মোঃ আঃ হান্নান খন্দকার, মাতা- মোছাঃ ফাতেমা, সাং- দড়ি নগুয়া, ৯নং ধারা ইউনিয়ন পরিষদ, থানা- হালুয়াঘাট, জেলা- ময়মনসিংহ। তার কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-গ-১৪-০৮৩১) চালাচ্ছিলেন ড্রাইভার মোঃ মাসুদ মিয়া (২৫), পিতা- চাঁন মিয়া, মাতা- ফিরোজা আক্তার, সাং- বড় চিলাঘাই, ৩নং ভাইটকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ, থানা- ফুলপুর, জেলা- ময়মনসিংহ।

জানা যায়, গত ৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে ফতুল্লা থানাধীন সাদ্দাম মার্কেট থেকে তাদের কাভার্ড ভ্যানে আনুমানিক ৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা মূল্যের ৬১৪ (ছয়শত চৌদ্দ) পিস কম্বল বোঝাই করে ময়মনসিংহের ফুলপুর এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পথিমধ্যে একই দিন ভোর আনুমানিক ৫টা ৫ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ২নং ওয়ার্ডের সাইনবোর্ড এলাকার প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর পাশে পৌঁছামাত্র অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন ডাকাত তাদের গাড়ি থামানোর সংকেত দেয়। এ সময় ডাকাতরা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয়।

ড্রাইভার গাড়ি থামানো মাত্র ৩ জন ডাকাত কাভার্ড ভ্যানে উঠে মালিক ও চালককে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। পরে তাদের গেঞ্জির কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে ধারালো ছুরি প্রদর্শন করে হত্যার ভয় দেখায়। এরপর ভুক্তভোগী মোঃ ইব্রাহিম খন্দকারের ব্যবহৃত একটি টেকনো স্মার্টফোন (আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার টাকা) ও নগদ ১০ হাজার টাকা এবং ড্রাইভার মোঃ মাসুদ মিয়ার ব্যবহৃত একটি ভিভো B64 স্মার্টফোন (আনুমানিক মূল্য ১২ হাজার ৫০০ টাকা) ও একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।

এরপর ডাকাতরা ভুক্তভোগী দুজনের মুখ ও চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের নিজেদের সঙ্গে থাকা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয় এবং কম্বলবোঝাই কাভার্ড ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ডাকাতরা ভুক্তভোগী দুজনকে মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানাধীন বালিগাঁও বাজারের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং একই দিন দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী-এর নির্দেশনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমদাদুল হক-এর নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ মাসুম বিল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্সসহ ৭ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানার বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে লুণ্ঠিত কাভার্ড ভ্যান ও ৬১৪ পিস কম্বল উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নিম্নোক্ত ৫ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়—

১. আঃ রহিম (৪২), পিতা- মৃত নূর মোহাম্মদ, স্থায়ী ঠিকানা- পশ্চিম লক্ষীপুর, ১৫নং ওয়ার্ড, থানা- লক্ষ্মীপুর সদর, জেলা- লক্ষ্মীপুর। বর্তমান ঠিকানা- নূরবাগ (আবুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া), থানা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।

২. মোঃ ফারুক ওরফে বাবু (৪০), পিতা- আবুল কাশেম, স্থায়ী ঠিকানা- বরহমপুরা (তালুকদার বাড়ি), থানা- দশমিনা, জেলা- পটুয়াখালী। বর্তমান ঠিকানা- নূরবাগ (ফরমানের বাসার ভাড়াটিয়া), থানা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।

৩. মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪০), পিতা- মৃত সেলিম আজম চৌধুরী, স্থায়ী ঠিকানা- আতাইকুলা, থানা- আতাইকুলা, জেলা- পাবনা। বর্তমান ঠিকানা- বনগ্রাম বাসস্ট্যান্ড (কাজিম উদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া), থানা- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, জেলা- ঢাকা।

৪. আঃ গাফফার (৩৭), পিতা- আঃ কাদির, স্থায়ী ঠিকানা- গুয়াগাছিয়া, থানা- গজারিয়া, জেলা- মুন্সীগঞ্জ। বর্তমান ঠিকানা- মানিকনগর ওয়াসা রোড, থানা- মুগদা, মহানগর- ঢাকা।

৫. আঃ রহমান (৩০), পিতা- মোঃ ফারুক, স্থায়ী ঠিকানা- রাজারগাঁও, থানা- হাজীগঞ্জ, জেলা- চাঁদপুর। বর্তমান ঠিকানা- মিতালী মার্কেট, ৯ নম্বর ভবন, থানা- সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।

গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >