নারায়ণগঞ্জ । সোমবার
৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ,
২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীপু ভুঁইয়ার তেলেসমাতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে বইতে শুরু করেছে তীব্র নির্বাচনী হাওয়া।চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন।মনোনয়ন প্রত্যাশীদের  নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে ইতিবাচক আলোচনায় উঠে এসেছেন বেশ কয়েকজনের নাম । তুমুল বিতর্কের ঝড় বইছে বিএনপি তরুণ রাজনীতিক দীপু ভুঁইয়াকে ঘিরে। নানা তর্ক-বিতর্ক ও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

রূপগঞ্জে ভোটের মাঠ  বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। আগামীর নির্বাচনকে ঘিরে এই আসনটিই এখন নারায়ণগঞ্জ রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্রবিন্দু। কেননা এই আসনেই রয়েছেন এমন এক বিএনপি নেতা যিনি বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি আর কেউ নন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান দীপু ভুঁইয়া। ফ্যাসিস্টের দোসর গডফাদার খ্যাত শামীম ওসমান এবং তার পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠতার বেশ কিছু তথ্য প্রমাণাদি মিলেছে তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতারা জানান,আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বছরখানেক আগে বিএনপি নেতা দীপু ভূঁইয়ার মালিকানাধীন গুলশানের ভবনে ৬ হাজার স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাটে পরিবারসহ থাকতেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধীতা থাকা সত্ত্বেও রূপগঞ্জের বিএনপি নেতা দীপু ভূঁইয়ার সঙ্গে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল অটুট। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার সংবাদে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায় দীপুর।  ঠিক সেই সময় থেকেই আত্মগোপনে চলে যান শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমান। কিন্তু গুলশানের সেই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে আটকা পড়ে যান লিপি ওসমান, মেয়ে লাবিবা জোহা অঙ্গনা, পুত্রবধূ ইরফানা আহমদ রাশমী এবং ছোট্ট শিশু আরজিয়ান। অপর একটি সূত্র জানায়, সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে  ওসমান পরিবারের পুরনো বন্ধু দীপু এগিয়ে আসেন শামীম ওসমানের পরিবকারকে সহায়তা করার জন্যে। নিজেই কালো গ্লাসঘেরা একটি গাড়ি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন গাউসিয়া বিল্ডিংয়ের সামনে। মুহূর্তের মধ্যেই লিপি ওসমান ও পরিবারের সদস্যদের উঠিয়ে নেন  তার গাড়িতে। এরপর রাজধানী ছেড়ে তারা ছুটে চলেন সিলেটের পথে। রাত যখন প্রায় শেষের দিকে ঠিক তখনি দীপুর গাড়িটি গিয়ে থামে ডাউকি সীমান্তের এক নির্জন নদীচরে। কলকাতার সীমান্তে নারায়ণগঞ্জের সন্তান সুইজারল্যান্ডের পাসপোর্টধারী অনুপ প্রস্তুত ছিলেন ওসমান পরিবারের সদস্যদেরকে নিরাপদে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। অনুপের কাছে ওসমান পরিবারকে হস্তান্তর করেন দীপু । দেশজুড়ে আলোচিত ওসমান পরিবারের পালানোর পর নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তাদের সম্পদ নিয়ে। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে শামীম ওসমানের ফেলে যাওয়া একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফ্ল্যাট, বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি ও কার্গো জাহাজগুলোর দেখাশোনা করছেন বিএনপি নেতা দীপু ভুঁইয়া  এবং ইকবাল ।

সূত্র আরও বলছে, দুবাই থেকে শামীম ওসমান নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এই দুই জনের সঙ্গে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘটনা শুধু দুই দলের অঘোষিত আঁতাতকেই প্রকাশ করেনি, বরং প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘দুর্বৃত্ত-রাজনীতি’র শেঁকড় এখন আরও গভীরে গাথিত।

এসকল কিছুর মাধ্যমেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপি নেতা দিপু ভূঁইয়া। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি শুধু শামীম ওসমান পরিবারের দেশত্যাগে সহায়তা করেছেন তা-ই নয়, বরং তাদের দেশে থাকা সম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের দেখভাল এবং বিক্রির দায়িত্বও নিজ হাতে নিয়েছেন তিনি।  রূপগঞ্জসহ গোটা নারায়ণগঞ্জেই দীপু ভুঁইয়ার এসব কর্মকাণ্ড ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সিনিয়র নেতাসহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >