আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোট প্রদান কেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের দিন প্রত্যেক প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় অবস্থিত নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এই আসনে সক্রিয় সব প্রার্থীর ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ সম্পন্ন হলো। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক তৎপরতা ও ভোটারদের আগ্রহ।
বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী ভোট দেবেন হরিহরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে। তিনি এম. এ. লতিফ বিজ্ঞান ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত কেন্দ্র-৩ এ নিজের ভোট প্রদান করবেন বলে জানা গেছে।
একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ আলম শাহ ভোট দেবেন ফতেহ উল্লাহ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় স্থাপিত ফতুল্লা ভোটকেন্দ্রে। তিনি ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র-১ এ ভোট প্রদান করবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার রেবেতী মোহন পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত কেন্দ্র-২ এ ভোট দেবেন।
জানা গেছে, এনসিপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন পাইনদি এলাকার হাজী শামসুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন। তিনি ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র-২ এর টিনশেডের পশ্চিম অংশে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
অন্যদিকে বিএনপি জোট সমর্থিত ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ভোট দেবেন মুসলিম নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত মুসলিমনগর ভোটকেন্দ্রে। ভোটগ্রহণের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচনকে ঘিরে ফতুল্লা তথা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সমস্ত এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিজেদের সমর্থক নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং প্রত্যেকেই নির্বাচনে জয়ী হবার আশা ব্যক্ত করেছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচনেও এই আসনের ভোটগ্রহণ ও ফলাফল নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক মহলে বাড়তি নজর ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।



