নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একটি নামই যেন আলাদা করে উচ্চারিত হয়, আর সেটি হলো মোহাম্মদ আলী। দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি পরিচিত এক বিশেষ অভিধায় ‘কিং মেকার’ নামে। যিনি নিজে শুধু নির্বাচনে অংশ নেন না, বরং যার সিদ্ধান্ত, অবস্থান ও সমর্থন অনেক সময় নির্ধারণ করে দেয় কে যাবেন ক্ষমতার মসনদে।
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য,এফ.বি.সি.সি.আই এর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক মোহাম্মদ আলীর রাজনৈতিক প্রভাব বহুদিনের। একের পর এক নির্বাচনে দেখা গেছে তার ইঙ্গিতেই বদলে গেছে প্রার্থীর ভাগ্য, উল্টে গেছে জয়ের অঙ্ক। মাঠের রাজনীতি থেকে দলীয়, ভেতর থেকে বাহির সকল সমীকরণেই তার ভূমিকা ছিল নির্ধারক।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী আজ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন কিনতেই মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে ফতুল্লাসহ পুরো আসনে। সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও প্রত্যাশার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোড়ন।
ফতুল্লা ও আশপাশের এলাকায় মোহাম্মদ আলী শুধু একজন নেতা নন, তিনি একটি রাজনৈতিক শক্তিকেন্দ্র। তৃণমূলের কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতারাও তার অবস্থানকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেসব নেতা তার সান্নিধ্য ও সমর্থন পেয়েছেন, তাদের অনেকেই অল্প সময়েই উঠে এসেছেন নেতৃত্বের শীর্ষে। রাজনৈতিক মহলে বরাবরই মোহাম্মদ আলী পরিচিত এমন একজন নেতা হিসেবে, যিনি প্রার্থী ঠিক করেন, জয়ের সমীকরণ গড়েন এবং প্রয়োজন হলে পুরো দৃশ্যপট উল্টে দেন। এবার সেই ‘কিং মেকার’ নিজেই প্রার্থী হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ নতুন করে হিসাব-নিকাশের মুখে পড়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা ও আশপাশের এলাকায় উন্নয়ন, সংগঠন শক্তিশালীকরণ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে সোচ্চার ভূমিকার কারণে মোহাম্মদ আলীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা রয়েছে। মনোনয়ন সংগ্রহের খবরে সেই আস্থারই প্রতিফলন দেখা গেছে বলে তাদের দাবি। মোহাম্মদ আলীর শক্তি কেবল অতীতের পরিচয়ে নয়—তৃণমূলের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সংকটময় সময়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই তাকে ‘কিং মেকার’ বানিয়েছে। এবার সেই শক্তিই সরাসরি ভোটের মাঠে পরীক্ষিত হতে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে মোহাম্মদ আলী মানেই প্রভাব, কৌশল আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতীক। আসন্ন নির্বাচনী রাজনীতিতে এই ‘কিং মেকার’ কী ভূমিকা নেন—সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো রাজনৈতিক অঙ্গন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মোহাম্মদ আলীর মনোনয়ন সংগ্রহ রাজনীতির মাঠে তার সক্রিয় অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




