ব্যানার-পোস্টারে ধানের শীষ উধাও, সুবিধাবাদী রাজনীতিতে তোলপাড় নারায়ণগঞ্জ-৪।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের রাজনীতিতে আবারও তুমুল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন স্থানীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ শাহ আলম। ভোটের মৌসুম এলেই সক্রিয় হলেও বছরজুড়ে নিস্ক্রিয় থাকার অভিযোগে আগে থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি দুধের মাছি, বসন্তের কোকিল, মৌসুমি পাখি এমন নানা উপাধিতে পরিচিত।
নারায়ণগঞ্জ-৪-এর রাজনীতি আবারো উত্তাল। আবারো ঝড়ের কেন্দ্রে সেই পরিচিত নাম—শাহ আলম। নির্বাচন এলেই যার ঘুম ভাঙে, লোভে হুমড়ি খেয়ে পড়ে এমপি হওয়ার স্বপ্নে , এমন অভিযোগ বহু বছরের। কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি যা করেছেন, তা নিয়েই সবচেয়ে বেশি তোলপাড়। তার নির্বাচনী কৌশলের হঠাৎ বদলে যাওয়া, তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে।
বছরজুড়ে নিশ্চুপ থাকলেও ভোটের আগে শাহ আলমের প্রচারণা বরাবরই ছিল বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে সজ্জিত।এতদিন শাহ আলমকে এলাকায় দেখা গেছে বিএনপির ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট নিয়েই ব্যস্ত থাকতে। পোস্টারে শোভা পেতো ধানের শীষ। কিন্তু চলতি নির্বাচনী উত্তাপে তার সাম্প্রতিক প্রচারণায় সেই প্রতীক আর দৃশ্যমান নয়। হুট করেই নির্বাচনী প্রচারণা একেবারেই উল্টো। তার নতুন পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার—সব জায়গায় শুধু তার ছবি ! বিএনপির প্রতীক নেই,আছে শুধু নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা। ধানের শীষ এর ঠাই মেলেনি শাহ-আলমের নতুন পোস্টার-ব্যানারে।
এতে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে তীব্র কৌতূহল, “শাহ আলম আসলে কোন পথে হাঁটছেন?”
মনোনয়ন দৌড়ে নতুন সমীকরণ, আর তাতেই কি বদলে গেলো শাহ আলম? রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন, নারায়ণগঞ্জ-৪ এ জোটগত জটিল সমীকরণে মনোনয়ন পেতে পারেন মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। এই খবরেই নড়েচড়ে বসেছেন শাহ আলম,নিজের নির্বাচনী প্রচারণার রঙ বদলাতে সময় নেন নি এক মুহূর্ত। জেলা পর্যায়ের এক নেতা বলেন, “শাহ আলম সবসময় সুযোগ বুঝে কোপ মারতে চাওয়া এক ধরনের কৌশলী চরিত্র। মনোনয়ন অনিশ্চিত দেখলেই তিনি সরে যান।অনিশ্চিয়তা দেখলেই শাহ আলম পাশা উল্টে দেন। এটাই তার বহুদিনের প্রবণতা।”
এই প্রথম নয়—এর আগেও তিনি বিএনপির দুঃসময়ে দল থেকে পদত্যাগও করেছিলেন। আবার যখন মনোনয়ন নিয়ে গুঞ্জন বাড়ছে তখনই হঠাৎ দলীয় প্রতীক ছাড়া প্রচারণা শুরু! তার এই আচরণকে অনেকেই উপহাস করে বলছেন, কাকের বাসায় ডিম পাড়তে আসা বসন্তের কোকিল আবার উড়াল দিলো নিজের স্বার্থে! সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে বসন্তের কোকিলের এটা কি আরো এক নতুন রূপ? শাহ আলমের আচরণে সাধারণ নেতাকর্মীরা হতবাক। অনেকে প্রকাশ্যে না বললেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ জমেছে।
এক সিনিয়র বিএনপি নেতা বলেন, একজন মানুষ কতটা ক্ষমতালোভী হলে বারবার নিজেদের প্রতীক, নিজেদের দল ফেলে রেখে ভোটের আগে নতুন পথে হাঁটার চেষ্টা করেন? বহু বছরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতবাক। তাদের সবার একটাই প্রতিক্রিয়া, যাকে খুঁজে পাওয়া যায় না সারা বছর, তিনি আবার এমপি হতে মরিয়া! প্রতীক ছাড়া পোস্টার ঝুলিয়ে কি বুঝাতে চাইছেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন আচরণ একটি নেতার অস্থিরতা, স্বার্থকেন্দ্রিকতা ও রাজনৈতিক অনির্ভরতার প্রকাশ। তাদের ভাষায়, ক্ষমতার লোভে অন্ধ হলে এভাবেই চরিত্র উল্টে যায়। শাহ আলম তার জীবন্ত উদাহরণ।
শাহ আলমের আচরণে নারায়ণগঞ্জ-৪ এর রাজনীতি এখন আরও উত্তপ্ত ও জটিল। এখন পুরো এলাকা জুড়ে আলোচনার ঝড়, শাহ আলম কি বিএনপি ছাড়ছেন? নাকি মনোনয়ন চাপ বেড়ে যাওয়ায় তিনি হিসাবি খেলা খেলছেন? তিনি আসলে কোন দলে? কোন প্রতীকে? কোন অবস্থানে?
এমন প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি, সব প্রশ্নই ঝুলে আছে বাতাসে। তবে একটি জিনিস স্পষ্ট, শাহ আলমের গণেশ সত্যিই উল্টে গেছে, আর তার এই ধামা-ধাম পাল্টে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জ-৪ জুড়ে নির্বাচনী হাওয়া ভিন্ন দিকে বইতে শুরু করেছে।





