নারায়ণগঞ্জ । শনিবার
১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

“মোহাম্মদ আলী” নামটিই যেনো একটি ব্রান্ড

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে “মোহাম্মদ আলী” নামটি শুধু একটি নামই নয় বরং একটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড।

জেলার রাজনীতিতে ‘কিং মেকার’ হিসেবে পরিচিত এই বীর মুক্তিযোদ্ধার হাত ধরেই উঠে এসেছেন বহু প্রভাবশালী নেতা। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক এবং অভিজ্ঞ শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরেই জেলার অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বাবার আঙুল ধরে সন্তান যেমন হাটতে শেখে ঠিক তেমনি নারায়ণগঞ্জ এর রাজনীতিতে বহু হেভিওয়েট নেতাদের হাটা শিখিয়েছেন এই মোহাম্মদ আলী।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য ছিলেন। তিনি দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহসভাপতি, ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।

প্রথমবারে ২৩৭ আসনে মনোনয়ন ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ২য় দফায় আরো ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এখনো কোনো প্রার্থী দেয় নি বিএনপি আসনটি এখনো শূন্য রেখেছে দল। এমন সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন হয়তো জোটের জটিল সমীকরণেই আটকে আছে নারায়ণগঞ্জ-৪। আবার অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে এ শূন্যতার পেছনে কি শুধুই জোটের চাপ, নাকি অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশে ধোঁয়াশা?

আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী, সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আলম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব,জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ আরো অনেকে। স্থানীয়দের মতে, এদের অধিকাংশই রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে মোহাম্মদ আলীর হাত ধরেই উঠে এসেছেন। এরা সকলেই যেনো মোহাম্মদ আলীর কাছে নিতান্তই সন্তান তুল্য।এদের প্রত্যেকেই রাজনৈতিক জীবনের মূল হাতেখড়ি পেয়েছেন মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে। গুরু মোহাম্মদ আলীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করা শাহ আলম, ২০০১ এর নির্বাচন এ মোহাম্মদ আলীর কারিশমায় বিজয়ী হওয়া গিয়াসউদ্দিনসহ সবাই মোহাম্মদ আলীর আঙুল ধরে হাটিহাটি পা পা করে নারায়ণগঞ্জ এর রাজনীতিতে এসেছিলেন। মনোনয়ন দৌড়ে মোহাম্মদ আলীর সাথে তাদের সহাবস্থান ঠিক যেন চিতার সাথে কচ্ছপের দৌড় প্রতিযোগিতার সমতুল্য।

ফতুল্লার প্রবীণরা বলছেন, দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চিত এই এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও প্রভাব সবকিছুতেই মোহাম্মদ আলী এগিয়ে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তাদের মতে, “ফতুল্লার উন্নয়নকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিতে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী হলেন মোহাম্মদ আলী।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসনটির জন্য যোগ্য ও অবস্থান সম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে যোজন যোজন এগিয়ে থাকছেন মোহাম্মদ আলী। দানবীর হিসেবে তার যেমন জনপ্রিয়তা রয়েছে, তেমনই রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংকও। এই অঞ্চলের মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি পাশে ছিলেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলেও তিনি ফতুল্লার বিএনপি নেতাকর্মীদের বৃহৎ একটি অংশকে সুরক্ষিত রাখতে নীরবে ছায়া তলে রেখেছেন। ফলে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল সবখানেই তার প্রতি সমর্থনের একটি শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে।

সবশেষে মূল প্রশ্ন ,ধানের শীষ নাকি জোটে ছাড়? এখন সব নজর বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে। রাজনৈতিক অঙ্গনে একটাই প্রশ্ন , এবারও কি নারায়ণগঞ্জ-৪ জোটের জন্য ছাড়তে যাচ্ছে বিএনপি? নাকি মোহাম্মদ আলীর মত শক্তিশালী স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের আসনটিতে ফিরে পাবেন বহু প্রত্যাশিত ‘ধানের শীষ’ প্রতীক ?

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >