নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চাঁদনী হাউজিং ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আলোচিত সন্ত্রাসী পাগলা হামিদ। একেক সময়ে একেক রাজনৈতিক নেতার ছায়ায় থেকে চাঁদনী হাউজিংয়ের মুকুট বিহিন সম্রাটে পরিণত হয়েছে বহুরুপি এই সন্ত্রাসী।
এমনকি চাঁদনী হাউজিং থেকে শুরু করে পঞ্চবটি, শাসনগাঁও ও বিসিক এলাকা পর্যন্ত জমি-জমার নানা বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ, প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজী এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধ টাকার কুমির বনে গিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগের চিহ্নিত এই সন্ত্রাসী ইতিমধ্যে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হলেও জামিনে বেড়িয়ে ফের চাঁদনী হাউজিং ও আশপাশের এলাকার অবৈধ গ্যাস সহ অন্যান্য সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও স্থানীয় এক প্রভাবশালী যুবদল নেতার ছায়ায় আড়াল থেকে নিজের সাম্রাজ্য পরিচালনা করে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কথিত আছে, মৌ মাছির মত সর্বদা মধুর সন্ধানে থাকেন বহুল সমালোচিত সন্ত্রাসী পাগলা হামিদ। ফলে এই ডাল ওই ডাল করে দিন কেটেছে তার। অর্থাৎ দিনে এক নেতা ও রাতে আরেক নেতার পদ লেহন করে যেন ভাগ্যের সন্ধান করে বেড়ান তিনি। সবশেষ তিনি ভিড়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির ছায়াতলে। এর আগে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত বিএনপি নেতা জাকির খানের বলয়ে ভিরেছিলেন পাগলা হামিদ। তারও আগে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন হাজী সাহেব খ্যাত আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। আজমেরীর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পাগলা হামিদও হয়ে উঠেছিলেন আরও দুর্ধর্ষ। আওয়ামী সরকার পতনের পর আজমেরীর ছায়া সরে গেলে তিনি খুঁজে নেন বিএনপির আলোচিত নেতা জাকির খানের ছায়া। আজমেরীর এই ক্যাডারকে পাশে রাখায় জাকির খান নিজেই সমালোচিত হোন।
এদিকে, আজমেরী ওসমানেরও আগে পাগলা হামিদ এক সময়ে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি (প্রয়াত) কবরীর চিহ্নিত ক্যাডার ছিলেন। কবরীর পিএস বিতর্কিত সেন্টুর ভাই পরিচয় দিয়ে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গোটা ফতুল্লা এলাকা দাবরে বেড়িয়েছিল এই পাগলা হামিদ। অতীতে নিতান্তই একজন ড্রাইভার হলেও কবরীর আমলে রাতারাতি তার ভাগ্য বদলে যায়। বনে যান কোটিপতি।
অন্যদিকে, ২০১৪ সালে শামীম ওসমান পূনরায় এমপি হলে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলে পাগলা হামিদ। শামীম ওসমানের অনুকম্পা পেতে যোগ দেয় মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনুর সাথে। তার সাথে মিছিল মিটিং করে নিজেকে শামীম ওসমানের লোক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই ছিলো তার প্রধান লক্ষ্য।
তবে পরবর্তীতে সাজনুর হাত ছেড়ে পাগলা হামিদ ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি (প্রয়াত) সাইফউল্লাহ বাদলের বলয়ে ভিরেছিলেন। এতেও তেমন সুবিধা না হওয়ায় বাদলের সাথেও দুরত্ব তৈরী করে ধীরে ধীরে নিজেকে আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে আওয়ামী লীগের পতনের পর আজমেরী ওসমান পালিয়ে গেলে নিজের আধিপত্য ও সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে বিএনপি নেতাদের কাঁধে ভর করতে শুরু করেছেন তিনি।
জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার উপর স্বশস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে এই পাগলা হামিদের বিরুদ্ধে। বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে কিংবা গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলন চলাকালেও পাগলা হামিদকে আজমেরী ওসমানের গাড়িতে চড়ে শহরে মহড়া দিতে দেখা যেত। ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আজমেরী ওসমানের সাথে মহড়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে নারায়ণগঞ্জ সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একাধিক হত্যা মামলার আসামী হয়েছে পাগলা হামিদ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হয় সে।
জামিনে বের হয়ে একই কায়দায় চাঁদনী হাউজিংয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া পাগলা হামিদ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা (বর্তমানে মশিউর রহমান রনির গ্রুপ) ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়। স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় পাগলা হামিদকে পূনরায় আইনের আওতায় আনার বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, পাগলা হামিদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ সেক্টর নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক ইতিবৃত্তি নিয়ে শিঘ্রই প্রকাশিত হবে ধারাবাহিক প্রতিবেদন। তা দেখতে চোখ রাখুন সময় নারায়ণগঞ্জে।






