নারায়ণগঞ্জের বন্দরের কলাগাছিয়ার মোহনপুর নদীর তীরে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ডকইয়ার্ড থেকে জব্দকৃত কোটি টাকার মূল্যের চোরাই ড্রেজারের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য অবশেষে উন্মোচিত হয়েছে। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে ড্রেজারটির প্রকৃত মালিক মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন মোল্লা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর থেকেই শাহাবুদ্দিন মোল্লা আড়ালে চলে গেলে পরিস্থিতির সুযোগ নেয় সংঘবদ্ধ একটি চোরাই ড্রেজার চক্র। মাদারীপুর থেকে ২৪ ইঞ্চি কাটিং এস.এস মৌরি ড্রেজারটি গোপনে এনে বন্দরের ময়মনসিংহপট্টি এলাকায় রাখা হয়।
মাস দু’য়েক পর বন্দর এলাকার কথিত কয়েকজন বিএনপি ও যুবদল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি—মিনহাজ মিঠু, পাপ্পু ও হুমায়ুন—ড্রেজারটি কলাগাছিয়ার মোহনপুরে সরিয়ে নিতে থানা পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে রাতের অভিযানে নৌ পুলিশ ড্রেজারটি আটক করে এবং পাহারার দায়িত্বে দুই পুলিশ সদস্যকে নিয়োগ দেয়।
স্থানীয়দের দাবি, গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চক্র পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে জব্দকৃত ড্রেজারটি জোরপূর্বক মোহনপুরের মাজহারুল ইসলামের ডকইয়ার্ডে নিয়ে যায়। সেখানে দিনরাত গ্যাস দিয়ে ড্রেজার কাটার চেষ্টা চলছিল।
ঘটনা নজরে এলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। অভিযানে দুইজনকে আটক করা হলেও অজ্ঞাত কারণে অল্প সময়ের মধ্যে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ডকইয়ার্ড মালিক মাজহারুল ইসলাম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
কলাগাছিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতার জাহাজ চোর সিন্ডিকেট আর স্থানীয় বিএনপি–যুবদল নেতাদের আতাতে কেটে বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। প্রশাসনের ভেতরের কিছু অংশও এতে সহযোগিতা করেছিল বলে আমরা ধারণা করছি।”
উল্লেখিত নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদটি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার ড্রেজার মালিকের চাচাতো ভাই আতাহার মোল্লা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অতিরিক্ত এএসপি (সার্কেল-খ) এর কাছে উপস্থিত হন। যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ড্রেজারটির প্রকৃত মালিক শাহাবুদ্দিন মোল্লা।
থানা সূত্র অনুযায়ী, মালিকপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী নয়। তাই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ড্রেজারটি মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।







