নারায়ণগঞ্জে বন্দর উপজেলায় একটি বাসায় লাইনের লিকেজ থেকে জমা হওয়া গ্যাসের বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ অন্তত পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকার একতলা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান কাঁচপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, ওই বাড়িতে তিতাসের গ্যাস লাইনের পাশাপাশি সিলিন্ডারের এলপি গ্যাসেরও সংযোগ ছিল। কোনোভাবে লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস রান্নাঘরে জমে ছিল। সকালে রান্নার জন্য আগুন জ্বালাতেই বিস্ফোরণের ঘটা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন: মদনপুরের একতা মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্দুল মান্নান (৫০), তার স্ত্রী গৃহিনী সুলতানা (৩৫), তাদের দুই সন্তান মিম (১৩) ও সিয়াম (১৯) এবং প্রতিবেশী হযরত আলী (৮)।
তারা সকলেই ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, মান্নানের শরীরের ৩০ শতাংশ, সুলতানার ৯০ শতাংশ, মিমের ৪১ শতাংশ, সিয়ামের ৭৭ শতাংশ এবং আলীর ৮ শতাংশ পুড়ে গেছে।
“হযরত আলীকে হাসপাতালের অবজারভেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বাকি চারজন এ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সকলেরই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। ” যোগ করেন ওই চিকিৎসক।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া একই এলাকার চা দোকানি মো. অনিক বলেন, “সকালে রান্নাঘরে রান্নার জন্য আগুন জ্বালানোর পরপরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। আগুনে ওই পরিবারের চারজন ও প্রতিবেশী এক শিশু ছেলে দগ্ধ হয়। এলাকার লোকজন তখন ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।”
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দুই কক্ষের ওই বাড়িটিতে ভাড়া থাকতেন পরিবারটি। তিতাসের গ্যাস লাইনের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে পরিবারের লোকজন রান্নার কাজে সিলিন্ডারের এলপি গ্যাসও ব্যবহার করতেন।
“আমরা ঘটনার অনেক পরে খবর পেয়ে সেখানে টিম পাঠাই। সেখানে গিয়ে গ্যাসের দুই ধরনের উৎস পেয়েছি। কিন্তু লিকেজ মূল লাইন নাকি সিলিন্ডারের লাইন থেকে হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
তদন্তের পর নিশ্চিত করে লিকেজের মূল উৎস জানা যাবে বলেও যোগ করেন তিনি।





