নারায়ণগঞ্জ ।
,

গেন্ডারী নেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, দুইজনের বিরুদ্ধে এজাহার

গেন্ডারী নেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, দুইজনের বিরুদ্ধে এজাহার, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গেন্ডারী নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক বাড়িওয়ালাকে চাইনিজ কুড়াল, লাঠি ও কামড় দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় মো. সফর আলী (৪২) ও তার স্ত্রী মোসা. সাবিনা আক্তারের (৩৩) বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন মো. আব্দুল হাকিম শিকদার (৫৮) নামে এক ব্যক্তি। এজাহারে বলা হয়েছে, আব্দুল হাকিম শিকদার পঞ্চবটি মর্ডান হাউজিং এলাকায় বাসা ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

পাশাপাশি এক বন্ধুর খালি প্লটে তিনি গেন্ডারী চাষ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত সফর আলীর ১১ বছর বয়সী ছেলে জুনায়েদ ওই প্লট থেকে আব্দুল হাকিমকে না জানিয়ে গেন্ডারী নিয়ে যায়। পরে বিদ্যুৎ আসার পর বিষয়টি দেখতে পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি পঞ্চবটি মর্ডান হাউজিংয়ের হানিফ মিয়ার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় সফর আলীর ভাড়া বাসায় যান এবং গেন্ডারী নেওয়ার বিষয়টি জানান।


এজাহারে আব্দুল হাকিম অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে সফর আলী ও তার স্ত্রী সাবিনা আক্তার তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সাবিনা আক্তার একটি চাইনিজ কুড়াল বের করে দেন এবং সফর আলী কুড়াল দিয়ে তার মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গেলে কুড়ালের কোপ তার কাঁধে লাগে এবং রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, সফর আলী কুড়াল দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করলে বাম পায়েও কাটা জখম হয়। একপর্যায়ে তিনি মেঝেতে পড়ে গেলে সাবিনা আক্তার লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করেন এবং কামড় দিয়ে তার গলায় জখম করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় সফর আলী কুড়ালের বাট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন আব্দুল হাকিম। এতে তার ডান পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আব্দুল হাকিমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও বাড়ির মালিক ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তার কাঁধে পাঁচটি এবং বাম পায়ে তিনটি সেলাই দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


এজাহারকারী জানান, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করায় ঘটনার পর থানায় আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।


এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >