নারায়ণগঞ্জ ।
,

সংস্কার হচ্ছে রাইফেল ক্লাব ও জিয়া হল, বায়তুল আমানের ভবিষ্যৎ কী?

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত তিনটি ঐতিহাসিক স্থাপনা শহীদ জিয়া হল, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাব ও বায়তুল আমান ভবন। ইতিহাস, রাজনীতি ও সংস্কৃতির নানা অধ্যায়ের সাক্ষী এই তিনটি স্থাপনাকে ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে জিয়া হল ও রাইফেল ক্লাবে সংস্কারকাজ চললেও দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বায়তুল আমান ভবন।

শহীদ জিয়া হল (সাবেক নারায়ণগঞ্জ মিলনায়তন)  ১৯৮১ সাল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় এটি ‘নারায়ণগঞ্জ মিলনায়তন’ হিসেবে নির্মিত হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে এর নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ জিয়া হল’ রাখা হয়।দীর্ঘ সময় এটি জেলার প্রধান সাংস্কৃতিক ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

একসময় জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র ছিল শহীদ জিয়া হল। নাটক, আবৃত্তি, সংগীতানুষ্ঠান, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হতো এখানে। কিন্তু  বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে  রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অডিটোরিয়ামে রূপ দিতে ভবনটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দর্শকাসন, মঞ্চ, সাউন্ড সিস্টেম, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য অবকাঠামো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

১৯৫০ সাল প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রাচীন শুটিং ও ক্রীড়া ক্লাবগুলোর অন্যতম হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে অস্ত্র লুটের ঘটনার ইতিহাসেও এই ক্লাবের নাম উঠে এসেছে।

নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবেও চলছে সংস্কার। ক্রীড়া ও শুটিং চর্চার জন্য পরিচিত এ ক্লাবটি গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক নানা ঘটনার কারণেও আলোচনায় আসে।

 নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমানের অফিস হিসেবে পরিচিতি ছিল। নারায়ণগঞ্জের সকল অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এ রাইফেল ক্লাব। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ভবনটিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা সংঘটিত হয়েছিল। পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা ও অগ্নিসংযোগে ভবনটিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়।

আওয়ামী লীগের প্রারম্ভিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত বায়তুল আমান ভবন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভবনটির বড় অংশ ভেঙে ফেলা হয়, যা নিয়ে ইতিহাসবিদ ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অরক্ষিত অবস্থায় থাকায় ভবনের ভেতরে কিশোরদের আড্ডা, মাদক সেবন ও বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে আশপাশের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের দাবি, বায়তুল আমান ভবনটি দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হোক। তাদের মতে, ভবনটি সংস্কার কিংবা পুনর্বিন্যাস করে একটি গণগ্রন্থাগার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ বা ভাষা আন্দোলনভিত্তিক জাদুঘর, শিশু-কিশোর কেন্দ্র অথবা নাগরিক সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হলে চাষাঢ়া এলাকার সৌন্দর্য যেমন বাড়বে, তেমনি সামাজিক অবক্ষয়ও কমবে।

ডেইলিনারায়ণগঞ্জ২৪.কম

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >