নারায়ণগঞ্জ ।
,

ইতিহাস সৃষ্টি করে ট্রাম্পের উগ্রবাদের ভরাডুবি

ইতিহাস সৃষ্টি করে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উগ্র প্রচারণার মাধ্যমে রাজনীতিতে জায়গা করা এ প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার প্রথম মেয়াদেই দুই দফা অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও চার বছরের ব্যবধানে গত বছর যখন হোয়াইট হাউসে তিনি যান, তখন জরিপ সংস্থা গ্যালপের তথ্য অনুসারে ৪৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের সমর্থন ছিল ট্রাম্পের প্রতি।

কিন্তু বিশ্বজুড়ে চালানো শুল্ক যুদ্ধ এবং ইরানে আগ্রাসনের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রমেই তার জনসমর্থনে ধস নামছিল। এ চিত্রই প্রকাশ পেয়েছে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টির সব আসনে এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০ আসনের ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। এছাড়া ৩৬ অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটারদের সমর্থনের জোয়ারে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যানুসারে, বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টা পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদে ২৩৭ আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। অপরদিকে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছে ১৩৯টি আসন। এ সময় পর্যন্ত মোট ৫৯টি আসনে ভোট গণনা চলছিল।

অন্যদিকে উচ্চকক্ষ সিনেটে ৩৫ আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের নীল শিবির ২০ আসনে জয় পেয়েছে। অপরদিকে ১৩টি আসনে জয় পেয়েছে রিপাবলিকানদের লাল শিবির। এছাড়া আলাস্কা ও মিসিসিপি-দুই আসনে ভোট গণনা চলছিল, যেখানে উভয়পক্ষের ভোট প্রায় সমান হওয়ায় কাউকে নিশ্চিতভাবে জয়ী ঘোষণা করা যায়নি। তবে এর আগেই ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে বর্তমানে ৫৪ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অপরদিকে রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে ৪৪টি আসন। এছাড়া ৩৬ রাজ্যের গভর্নরের মধ্যে ১৭টিতে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। অপরদিকে ১২টিতে জয় পেয়েছে রিপাবলিকানরা।

কংগ্রেসের উভয়কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ চলে আসায় ট্রাম্পের বাকি দুই বছর দেশটিতে বিভক্ত প্রশাসন দেখা যাবে। প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেস বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকায় দেশটিতে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। ট্রাম্পের কাজে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করবে কংগ্রেস। এমনকি ট্রাম্পকে অভিশংসন করার উদ্যোগ নেওয়ারও সম্ভাবনা প্রবল।

মজার ব্যাপার হলো, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরাইলের আগ্রাসী নীতিকে অন্ধভাবে সমর্থন দেওয়ার কারণেই মূলত ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। তার দলও উভয়কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এবার সেই ইসরাইলি আগ্রাসনকে অকুণ্ঠ সহযোগিতার কারণে ট্রাম্পের দলেরও ভরাডুবি ঘটল।

এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের মেয়াদে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের হারিয়ে উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা। যুক্তরাষ্ট্রের গত একশ বছরের ইতিহাসে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পরিবর্তনের এমন মোট তিনটি উদাহরণ ছিল। মঙ্গলবারের নির্বাচনের মাধ্যমে চতুর্থ উদাহরণটি তৈরি হলো।

নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ২৭টি আসনে পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া সিনেটে পরিবর্তন হয়েছে সাতটি আসনের। বিশেষ করে টেক্সাস ও ক্যানসাসের মতো রিপাবলিকান অধ্যুষিত অঞ্চলেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। ক্যানসাস থেকে ১৯৩২ সালের পর ডেমোক্রেটিক পার্টির কোনো প্রার্থী সিনেটে নির্বাচিত হতে পারেননি। সে ইতিহাস বদলে এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন চার শতাংশ ভোটের ব্যবধানে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শালকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।

অপরদিকে ৩৩ বছর পর টেক্সাস থেকে প্রথম কোনো সিনেটর ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ট্যালারিকো ১২ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে হারান। এর আগে সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে টেক্সাস থেকে লয়েড বেন্টসেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকেই রাজ্যটি থেকে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ছাড়া কেউ জিততে পারেননি।

এছাড়া নির্বাচনে ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রথমবারের মতো কোনো মুসলিম উচ্চকক্ষ সিনেটে যাচ্ছেন। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুর রহমান আল-সাইয়েদ, যিনি আবদুল আল-সাইয়েদ নামেই বেশি পরিচিত, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। সাত শতাংশ ভোটের ব্যবধানে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

অর্থনৈতিক অসন্তোষে রিপাবলিকানদের পরাজয়

দ্বিতীয় মেয়াদে অনেকটা ইতিহাস তৈরি করেই শপথ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২০ সালে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিয়ে ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদ জো বাইডেনের কাছে হেরে যান তিনি। কিন্তু ওই ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করেন ট্রাম্প। এর জেরে অভিশংসনের মুখোমুখিও হয়েছিলেন তিনি।

সাধারণত দ্বিতীয় মেয়াদের লড়াইয়ে হেরে যাওয়া প্রার্থীরা আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেন না। কিন্তু এর ব্যতিক্রম করে ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ও বিশ্বজুড়ে যুদ্ধাবস্থার মীমাংসায় নিজেকে যোগ্যতম প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি। এছাড়া নিজের উগ্র রক্ষণশীল রাজনীতির অংশ হিসেবে প্রথম মেয়াদের মতোই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ট্রাম্প।

মার্কিন নাগরিক, বিশেষ করে শেতাঙ্গদের ওপর ভর করেই দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন ট্রাম্প। গত বছর জানুয়ারিতে শপথ নেওয়ার পরই বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে শুল্কযুদ্ধে নামেন ট্রাম্প। এমনকি দীর্ঘদিনের মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলোকেও নিশানা বানান তিনি। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নিলেও তা বিপরীত ফল দেয়।

এছাড়া চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করেন তিনি। গাজা আগ্রাসন ও ইউক্রেনে যুদ্ধ মীমাংসার কথা বললেও ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে বিশ্বে যুদ্ধের তৃতীয় একটি ফ্রন্ট খোলেন। ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে তেহরান প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর জেরে বিশ্বজুড়েই জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।

শুল্ক যুদ্ধ ও ইরান আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাপনের ব্যয় বিপুলভাবে বেড়ে যায়। এর জেরে ক্রমেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামছিল। সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতেও এ চিত্র উঠে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রে গত অক্টোবরে ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছিল প্রতি গ্যালনে ৬.২৫ ডলার, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এমনকি ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরও তেলের দাম এতটা বাড়েনি। দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে দুই ডলারের নিচে নামিয়ে আনবেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ট্রাম্পের এ ব্যর্থতা নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য এমন শোচনীয় ফল বয়ে নিয়ে এসেছে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

এদিকে নির্বাচনের পর প্রতিক্রিয়ায় ফলাফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। গতকাল বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এ ফলাফলে তিনি ‘কিছুটা অবাক’ হয়েছেন। তার ধারণা ছিল রিপাবলিকানরা আরো ভালো ফল করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা ভালো কাজ করেছে। তারা কঠোর লড়াই করেছে।’ তবে সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, ডেমোক্র্যাটরা তার কাছে ‘অযৌক্তিক’ আইন পাঠাবে, যেগুলোতে তিনি ভেটো দেবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক মাস ভেটো দেওয়ার পর, তারা ফোন করে বলবে, আমরা এ কাজগুলো কীভাবে সম্পন্ন করতে পারি? এবং আমরা একসঙ্গে কাজ করব। আমার ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা আছে।’

ট্রাম্প স্বীকার করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের পরাজয়ের ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে গতকাল নিজের সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি একটি লাল টুপির ছবি পোস্ট করেছেন, যার মধ্যে বড় আকারে লেখা ছিল ভেটো। যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসে কোনো প্রস্তাব পাস হলে তা আইনে পরিণত করতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। প্রেসিডেন্ট যদি এটিকে যথার্থ মনে না করেন, তবে তাতে ভেটো দিয়ে পর্যালোচনার জন্য আবার কংগ্রেসের প্রস্তাবটি পাঠাতে পারেন। পোস্টে এ ক্ষমতার প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।

ট্রুথ সোশ্যালে আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না, আর যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিপুল ভোটে জিতে যেতাম!’ এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর গতকাল সকালে হোয়াইট হাউসের এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়, ‘জনস্বার্থে বার্তা : ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।’

এছাড়া এক্সে পোস্টে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স লিখেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধই ছিল তাদের দলের পরাজয়ের প্রধান কারণ।

বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের ফলাফলে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টাল শ্যালডেমোস এক্সে এক পোস্টে বলেন, নির্বাচনের ফল ‘ইউরোপের জন্য অনুকূল হতে পারে।’

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাকির কালিবাফ এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘মার্কিনিরা যুদ্ধকে না বলেছে এবং আমরা এ বার্তায় সমর্থন দিচ্ছি। যদি মার্কিন সরকার জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তবে আমাদের প্রত্যাখ্যান দুঃস্বপ্নের মতো আসবে।’

এছাড়া ব্রিটেন ও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী একে উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে আঘাত বলে মন্তব্য করছেন।

এদিকে নির্বাচনের বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদ ইয়ায়ির গোলান এক্সে এক পোস্টে মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে প্রকাশ পেয়েছে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয়ের কাছেই নেতানিয়াহু কতটা অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়েছেন। নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই চলতি বছর ইরানে আগ্রাসন চালান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বার্তা সংস্থা স্পুৎনিককে বলেন, নির্বাচনের সর্বশেষ ফল প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করবেন। তবে মস্কোর সঙ্গে যে ডেমোক্র্যাটদের ‘নেতিবাচক’ সম্পর্ক রয়েছে তার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘গঠনমূলক কৌশলগত সম্পর্ক’ এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়। অন্যদিকে জাপানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফল যাই হোক, উভয়পক্ষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অব্যাহত রাখা হবে।

গভর্নর পদে নীলের ঢেউ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস ছাড়াও এবার ৩৬টি রাজ্যের গভর্নর পদের জন্য ভোট হয়েছে। সিএনএনের তথ্য অনুসারে, ১৭টি রাজ্যে বিজয়ী হয়েছে ডেমোক্র্যাট নীল শিবির। অন্যদিকে রিপাবলিকান লাল শিবির ধরে রেখেছে ১২টি গভর্নর পদ। অন্যদিকে সাতটি রাজ্যের ফল ঘোষণা এখনো বাকি রয়েছে। এ নিয়ে ৫০টি রাজ্যের ২৮টিতে বর্তমানে ডেমোক্র্যাট গভর্নর রয়েছেন। অন্যদিকে ২০টিতে রয়েছেন রিপাবলিকান গভর্নর। ডেমোক্র্যাটরা পাঁচটি রাজ্য রিপাবলিকানদের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলোতে অনেক্ষেত্রেই স্বায়ত্তশাসন রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেখানে গভর্নরই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিভিন্ন রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের এ জয় ট্রাম্পের শুল্ক ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মুখোমুখি ট্রাম্প

মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের বিপুল জয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিচালনায় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও আইন পাস নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধী সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসের উত্তেজনা সৃষ্টি হবে।

নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিস গতকাল মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাওকে বলেন, মার্কিনিরা গত দুই বছরে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তে তাদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব দেখে। এর প্রতিক্রিয়া তারা ভোটের মাধ্যমে দেখিয়েছে। তিনি ‘অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায়’ আনার অঙ্গীকার করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >