মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সু-সম্পর্ক তৈরির লক্ষে উৎসব মুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফকির এ্যাপারেলস লিমিটেডে বিভিন্ন বিভাগের ‘শ্রমিক অংশগ্রহণকারী কমিটি’ (পার্টিসিপেশন কমিটি-পিসি) নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ভোট গ্রহণের পর ভোট গণনা শেষে সন্ধায় বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হয়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বিকেল ৪টা পর্যন্ত কারখানার অভ্যন্তরে স্থাপিত ভোট কেন্দ্র গুলোতে একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা হলো রাশেদুল ইসলাম প্রাপ্ত ভোট ২৯৯, জুয়েল আহমেদ ৩৮৯, এলিজা ৩২৬, সাথী বেগম ৩৪২,,আখি খানম ৪৭২, সাথী আক্তার ২০৭, রাসেল ৬০৭, হাফজুর রহমান ২৩০, আসাদুজ্জামান ৪৪৪, আহসান মিয়া ৩৪৮, চঞ্চলা রানী দাস ১৪৫, সুমাইয়া আক্তার ৪০৮ এবং বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মাসুদ মিয়া এবং আল আমিন।
এদিকে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে নির্বাচনের কেন্দ্র গুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং নির্বাচনের পরিবেশনে ছিলেন ফকির অ্যাপারেলস লিমিটেডের (পরিচালক-সাসটেইনেবিলিটি) মনজারিন জামান।
আর নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ফকির এ্যাপারেলসের সিওও বখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন (আই আর অ্যান্ড) কমপ্লায়েন্সের জিএম মো: এমারত হোসেন, সিনিয়র ম্যানেজার এবং এইচআর জেসমিন সেহেলি,
ম্যানেজার( আইআর অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স) মোঃ রোকনুজ্জামান, (এজিএম-অ্যাডমিন) জাকির মাহমুদ।
সরেজমিনে ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন সেকশন ও বিভাগের শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের পছন্দের প্রতিনিধিদের ভোট দেন। ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা, ন্যায্য অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পারস্পরিক আলোচনা ও বোঝাপড়ার ক্ষেত্র তৈরি করতে ‘শ্রমিক অংশগ্রহণকারী কমিটি’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ শ্রমিকরা জানান, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে যোগ্য ও আস্থাশীল প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন, যা কারখানার সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারখানা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, নির্বাচন পরিচালনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতা লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচন কমিশনার সূত্রে জানান, শ্রমিকদের নির্বাচনের
তফসিল ঘোষণার পর শ্রমিকদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়। নির্বাচনে ১৫ টি সেকশনের ৪১ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। তার মধ্যে মহিলা প্রার্থী হলো ২১ জন এবং পুরুষ প্রার্থী ২০ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৮শত ৯৯ তার মধ্যে মহিলা ভোটার হলো ৪ হাজার ২শত ৪২ এবং পুরুষ ভোটার হলো ৫ হাজার ৬শত ৫৭।
নিবর্বাচন ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনার বখতিয়ার আহমেদ জানান, শ্রমিকদের সহযোগিতায়
শৃঙ্খলা, সুন্দর পরিবেশ এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে যে বন্ধন রয়েছে তা যেন সব সময় অটুট থাকে সেই প্রত্যাশা করছি।





