নারায়ণগঞ্জ ।
,

কুষ্টিয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মরমি সাধক, বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১২টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আগত সাধু-ভক্তদের সুযোগ-সুবিধা এবং বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও কুষ্টিয়া লালন একাডেমির সভাপতি মো. তৌহিদ বিন-হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ইয়াসমিন বেগম।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপসচিব) মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (শিল্পকলা) মো. হারুন-অর-রশীদ, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার মো. হাসান ইমাম, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর এবং সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা ও রেভিনিউ মুন্সিখানা শাখা) রেশমা খাতুন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

সভায় বক্তারা বলেন, ফকির লালন সাঁই ছিলেন অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী দর্শনের অন্যতম প্রধান সাধক। জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার যে দর্শন তিনি প্রচার করেছেন, তা আজও সমাজে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। লালনের গান ও দর্শন শুধু বাংলার মানুষের নয়, বিশ্বজুড়ে মানবতাবাদী চেতনার এক অনন্য সম্পদ।

বক্তারা আরও বলেন, লালন সাঁইয়ের অসাম্প্রদায়িক মানবধর্ম, সাম্য ও সম্প্রীতির দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশ-বিদেশে তাঁর দর্শনের বার্তা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক বাউল, সাধু, শিল্পী ও লালনভক্তের সমাগম ঘটবে। তাঁদের নিরাপত্তা, আবাসন, চিকিৎসা, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী তৎপরতা, পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং অনুষ্ঠানস্থলে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থী ও লালনভক্তরা যাতে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়েও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়ি প্রতিবছরই লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে পরিণত হয় বাউল, সাধু ও লালনভক্তদের মিলনমেলায়। কয়েক দিনব্যাপী এ আয়োজনে লালনগীতি, আলোচনা, সাধুসঙ্গ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >