নারায়ণগঞ্জ ।
,

জলমহাল দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৫০

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জলমহালের ভোগদখল এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের আখড়াবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিলমাকশা জলমহালের ভোগদখল নিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিনের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত বছরও এই জলমহাল নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘাত হয়। এতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কসহ একাধিক নেতাকর্মী আহত হন এবং থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরের দিকে আখড়াবাজার এলাকায় বিলমাকশা জলমহাল নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষের নেতাকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ২২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং গুরুতর আহত একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আহতদের অনেকে পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিন বলেন, ‘বিলমাকশা জলমহালটি গত বছর আমরা ইজারা নিয়েছিলাম এবং চলতি বছরও আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছি। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সভাপতি অন্যায়ভাবে বাধা তৈরি করছেন। শুক্রবার তার অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের লোকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।’

তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ বলেন, শাহিনের সমর্থকেরাই প্রথমে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ওই জলমহাল ইজারার বিষয়ে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। শাহিন অতীতে কখনো দলের মিছিল-মিটিংয়ে থাকেননি, পদের পরিচয়ও দেননি। ৫ আগস্টের পর নব্য হাইব্রিড কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তিনি দলের ভেতর বিভাজন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।

অষ্টগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >