সরকার আবারও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—চার ধরনের তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানায়, ২০২৫ সালের এপ্রিলের ৪ হাজার ১৯৫ কোটি টাকার আমদানি ব্যয় চলতি বছরের এপ্রিলে বেড়ে ৮ হাজার ১৩৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মে মাসের খরচ গত বছরের একই সময়ের ৪ হাজার ১৮২ কোটি থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ৪৮৫ কোটি এবং আগস্টে ২ হাজার ৭৪০ কোটি ৬২ লাখ থেকে ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির নিজস্ব তহবিলে লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এপ্রিলে লোকসান ৭ হাজার ৮৬৬ কোটি এবং জুনে ৬ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে লোকসান ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিপিসি জানিয়েছে, তারা আমদানি ব্যয় মেটাতে চলতি বছর ব্যাংক থেকে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তুলেছে। বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে রয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। তবে দুই মাসের আমদানি ব্যয়ের জন্য প্রয়োজন প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয় বিপিসি। চিঠিতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত লোকসানের অর্থ সরকারি সহায়তা হিসেবে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক-কর কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এরপর বিপিসির অর্থ সংকট নিয়ে গত সপ্তাহে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়। সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে বিপিসিকে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রোববারের প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানো হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।




