নারায়ণগঞ্জ ।
,

ফতুল্লায় ‘মানবিক বাজার’ ও ফ্যামিলি কার্ডের নামে প্রতারণার অভিযোগ

শত শত মানুষের টাকা হাতিয়ে অভিযুক্ত আলী আহাম্মদ লাপাত্তা, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় ‘মানবিক বাজার’ ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলী আহাম্মদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষকে সরকারি সুবিধা, কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পর বর্তমানে আলী আহাম্মদ লাপাত্তা রয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

এ ঘটনায় সস্তাপুর ও কায়েমপুর বটতলা এলাকায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রতারণার শিকার অনেকেই দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ হওয়ায় তাদের কষ্টার্জিত টাকা হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সস্তাপুর ও কায়েমপুর বটতলা এলাকার বিভিন্ন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে টার্গেট করে ‘মানবিক বাজার’ এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কথা প্রচার করা হয়। এতে বলা হয়, কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যাবে। এ ধরনের আশ্বাসে বিশ্বাস করে অনেকেই নিবন্ধন ও কার্ডের জন্য আলী আহাম্মদের কাছে টাকা জমা দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রত্যেকের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও তারা কাঙ্ক্ষিত কোনো কার্ড বা সুবিধা পাননি। একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে আলী আহাম্মদকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

কায়েমপুর বটতলা এলাকার ভুক্তভোগী মিসির আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আলী আহাম্মদ আমাদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা নিয়েছে। কিছুদিন ঘোরানোর পর এখন তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা দিনমজুর মানুষ। অনেক কষ্ট করে জমানো টাকা এভাবে নিয়ে গেলে আমাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।”

একই এলাকার ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম বলেন, “সংসারের কিছুটা কষ্ট কমবে—এই আশায় ধারদেনা করে টাকা দিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি, কোনো কার্ডই দেওয়া হবে না। এখন টাকা ফেরতও পাচ্ছি না। আমরা খুব বিপদের মধ্যে আছি।”

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কথা বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন আলী আহাম্মদ। তার বিরুদ্ধে অতীতেও সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ‘মানবিক বাজার’ বা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের নামে টাকা নেওয়ার বৈধতা, কার্ড বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে অভিযুক্ত আলী আহাম্মদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের হিসাব বের করে টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে ‘মানবিক বাজার’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর নামে আর কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখারও দাবি উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অসহায় মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে কেউ প্রতারণা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >