নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি খাল—প্রধান নিষ্কাশন খাল, কেন্দুয়া খাল ও এনএনডিটি প্রধান নিষ্কাশন খালের পুনঃখনন কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব খালের পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সংকট দেখা দেয়। খালগুলো পুনঃখনন ও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা গেলে রূপগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ ও মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, সংসদীয় আসন-২০৪ নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) এলাকার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি খালের পুনঃখনন দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধান নিষ্কাশন খাল, কেন্দুয়া খাল এবং এনএনডিটি প্রধান নিষ্কাশন খালের পুনঃখনন কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা রূপগঞ্জের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে এবার কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
রূপগঞ্জে দ্রুত শিল্পায়ন ও জনবসতি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন খাল ভরাট, দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেক জায়গায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির সময় এসব সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক খালের স্বাভাবিক প্রবাহ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেও বিভিন্ন সড়ক, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমে যায়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত তিনটি খালের পুনঃখনন কাজ শুরু হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। পাশাপাশি খালের সীমানা রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ময়লা-আবর্জনা ও শিল্পবর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং খালের সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলে এ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই নির্দেশনাকে রূপগঞ্জের পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কত দ্রুত নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করে এবং তিনটি খালের পুনঃখনন কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।





