নারায়ণগঞ্জের ইসদাইর এলাকার আলোচিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাক এবং তার সহযোগি সোহেলকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩ এর সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল একটি সূত্র। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত র্যাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়নি।
গ্রেফতার অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত আসছে…..
উল্লেখ্যে, ইতিপূর্বে প্রকাশিত তথ্য ও সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে ফতুল্লার বৃহত্তর ইসদাইর এলাকা। শহরের চাষাড়া রেল স্টেশনের নিকটবর্তী এই জনপদ এখন নারায়ণগঞ্জের অন্যতম ডেঞ্জার জোন। অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে সেখানে ঘটে চলেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি ও রক্তপাতও পরিণত হয়েছে নিত্যদিনের রুটিনে। ইসদাইরজুড়ে একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকলেও আধিপত্য বিস্তার ভয়াবহতার দিক থেকে অতীতের সবাইকে পেছনে ফেলেছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী রাজ্জাক বাহিনী।
পুত্রদের সাথে নিয়ে একের পর এক কিলিং মিশন চালিয়ে যাওয়া রাজ্জাক এখন ইসদাইরের মাদক সাম্রাজ্যের এক মুকুটবিহীন সম্রাট।
হত্যা, গুম, অপহরণ, অস্ত্র, চাঁদাবাজী, অস্ত্র ও মাদক সহ মোট ১২টি মামলার আসামী দুর্ষর্ধ রাজ্জাক ও তার এক ছেলেকে কয়েক মাস পূর্বে ৫৩ রাউন্ড তাঁজা গুলিসহ গ্রেফতার করেছিল ফতুল্লা থানা পুলিশের এসআই নন্দন ও রফিক।
অন্যদিকে, বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্রের মজুদ করা রাজ্জাকের ছেলে জসিমও বিগত কয়েক মাস পূর্বে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ২টি অত্যাধুনিক বিদেশী পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার হয়।
সম্প্রতি তারা জামিনে বেড়িয়ে আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠে। মেতে উঠে প্রতিশোধের নেশায়। ফলে তাদের আগ্রাসনের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠে ওই চৌকশ দুই এসআই সহ ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা।
১৫ই আগস্ট দুপুরে পূনরায় রাজ্জাকের মাদকের ডেরায় অভিযান চালায় এসআই নন্দর ও রফিক সহ থানা পুলিশের একটি টিম। এতেই যেন ভয়ঙ্কর এই সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত হয় তারা। রাজ্জাক ও তার পুত্রসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হয় এসআই নন্দন ও রফিকসহ তিন পুলিশ সদস্য।
আত্মরক্ষায় পুলিশের পাল্টা গুলিতে রাজ্জাক বাহিনী পিছু হটলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাজ্জাকের ছেলে সন্ত্রাসী জসিম ও তার সহযোগি মোহনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি গুলিভর্তি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে, পুলিশের উপর গুলি ছুড়েও যেন খ্যান্ত হয়নি দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী। এসআই নন্দন ও এসআই রফিক তথা ফতুল্লা থানা পুলিশকে বিতর্কিত এবং ঘায়েল করার মিশনে গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্জাক।
চক্রান্তের অংশ হিসেবে নিজ সিন্ডিকেটের মাদক ব্যবসায়ী আয়েশাকে ব্যবহার করে একটি পাতানো ফোন কল রেকর্ড ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এ প্রসঙ্গে এসআই রফিক ও এসআই নন্দন দাবি করেন, ‘মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চালানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে রাজ্জাক পুলিশকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে তার সিন্ডিকেটের মাদক ব্যবসায়ী আয়েশাকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে ওই কল রেকর্ড সাজিয়ে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়েছে।’






