নারায়ণগঞ্জ ।
,

ফতুল্লায় মামলা প্রত্যাহার না করায় বাদীকে কুপিয়ে জখম

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলোচিত ইমন হত্যা মামলার বাদী ওমর খৈয়ামকে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর কাজিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ইমনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার বাবা ওমর খৈয়াম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় জাহিদসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বোরকা পরিহিত জাহিদ সাত থেকে আটজন মুখোশধারী সহযোগীকে নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। মামলা প্রত্যাহার না করায় ওমর খৈয়ামের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহিদ এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া র‌্যাবের অভিযানে বাধা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া এবং পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ছুরিকাঘাত করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত জাহিদকে গ্রেপ্তারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অভিযান চলছে। তিনি বিভিন্ন সময় বোরকা পরে আত্মগোপনে চলাফেরা করেন। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মাদক মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছু সময় পর ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা ওমর খৈয়াম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ, সেই মামলা প্রত্যাহার না করায় এবার তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >