নারায়ণগঞ্জ । সোমবার
২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সিদ্ধিরগঞ্জ শ্মশান উন্নয়নে আর বাধা নেই, আম্বার পেপার মিলসের আবেদন খারিজ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী শ্মশান ও মন্দিরের উন্নয়নকাজ নিয়ে চলমান আইনি বিরোধে শ্মশান কর্তৃপক্ষের পক্ষে রায় দিয়েছেন আদালত। আম্বার পেপার মিলসের করা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় শ্মশানের আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার পিংকি এ আদেশ দেন। আদালতের রায়ের পর বিবাদীপক্ষের আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, “আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে শ্মশানের উন্নয়নকাজ চলমান রাখতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।”

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালত প্রমাণ করেছে যে আইনের শাসন ও ন্যায়ের প্রশ্নে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম।”

জানা গেছে, এরশাদ সরকারের আমলে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে প্রায় ৭০০ শতাংশ বা প্রায় ৭ একর জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল আম্বার পেপার মিলসকে। বর্তমানে ওই এলাকার জমির মূল্য প্রতি শতাংশ ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা হিসেবে বিবেচনা করলে সম্পত্তিটির বাজারমূল্য শত কোটি টাকারও বেশি। জমির মালিকানা, স্থায়ী বন্দোবস্তের বৈধতা এবং প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো শ্মশান ও মন্দিরের অস্তিত্বকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিরোধ চলছিল।

সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শ্মশান ও মন্দিরটি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্র। ১৭৯৩ সাল থেকে এ স্থানটি দাহক্রিয়া, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

এদিকে, শ্মশানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক দাহ চুল্লি, গোসলখানা, অফিস ভবনসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে একাধিক পাইলিং পিলার স্থাপন করা হয়েছে।

তবে উন্নয়নকাজ শুরুর পর জমির মালিকানা দাবি করে আম্বার পেপার মিলস আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে। রোববার আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় উন্নয়নকাজ পুনরায় গতি পাবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

অন্যদিকে, মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিদ খন্দকার জানিয়েছেন, তারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

তিনি বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আদালতে জমা দিয়েছি। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব এবং আইনগত লড়াই অব্যাহত রাখব।”

এ রায়ের ফলে সিদ্ধিরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শ্মশান ও মন্দিরের উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার পথ সুগম হলেও জমির মালিকানা ও স্থায়ী বন্দোবস্তের বৈধতা নিয়ে আইনি লড়াই এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ >

এই বিভাগের আরও সংবাদ >