ঢাকা, চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে লবণবাহী একটি কাভার্ডভ্যান থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পদুয়ারবাজার এলাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে কাভার্ডভ্যানটি কেটে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও কুমিল্লা জেলা পুলিশের মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল জানতে পারে, চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারের স্কটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান ঢাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পরে তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারটি থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন, লবণ পরিবহনের আড়ালে একটি কাভার্ডভ্যানে করে ইয়াবার বড় একটি চালান পাচার করা হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিবি পুলিশের সদস্যরা পদুয়ারবাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে কাভার্ডভ্যানটি আটক করেন। এরপর কাভার্ডভ্যানটি তল্লাশি চালিয়ে উপরের অংশে বিশেষ কৌশলে তৈরি করা গোপন চেম্বার থেকে ১৬টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
এসব প্যাকেটের ভেতর থেকে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিরা হলেন, সিরাজগঞ্জ জেলার কাভার্ডভ্যান মালিক শিপন শেখ, প্রাইভেটকার চালক রুবেল, যাত্রী সোহেল রানা, কাভার্ডভ্যান চালক মোজাহের শেখ এবং হেলপার সুরুজ হোসেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পদুয়ারবাজার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ও কুমিল্লা জেলা পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে মাদক পাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলেও গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এসব চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।





