ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও ইস্তফা দিতে চাননি মমতা ব্যানার্জি। তার এমন সিদ্ধান্তে নানা জল্পনা কল্পনা চলছিল। এবার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন সরকার ভেঙে দিলেন গভর্নর আরএন রবি।
বৃহস্পতিবার (০৭ মে) ঠিক মধ্যরাতে (রাত ১২টা) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পদত্যাগ করতে রাজি হননি। এদিকে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী ৯ মে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। ফলে প্রশ্ন ওঠে, ৮ মে মধ্যরাত থেকে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ পর্যন্ত বাংলা চালাবেন কে? এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা জোড়াল হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, সংবিধানে ১৭২ ধারা অনুযায়ী, রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ তার প্রথম অধিবেশনের তারিখ থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকে। পাঁচ বছর শেষে বিধানসভাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর জন্য গভর্নরের কোনো পৃথক আদেশের প্রয়োজন হয় না।
এই অবস্থায় সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন সরকার ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন গভর্নর আরএন রবি। বিবৃতি জারি করে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা।
ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (২) নম্বর দফার (খ) উপ-দফা অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে গভর্নর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে আগামী দুদিন রাজ্যের দায়িত্বভার সামলাবেন গভর্নর নিজেই। গভর্নরের এ পদক্ষেপের ফলে ১৮তম বিধানসভা গঠন ও বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পথ মসৃণ হলো।








